নিম তেলের উপকারিতা ও ব্যবহারের নিয়ম

নেম তেলের উপকারিতা অনেক। আগেকার মানুষ নিম তেলের সাথে বেশি পরিচিত থাকলেও বর্তমান যুগের মানুষ নিম তেলের সাথে তেমন পরিচিত নয়। নিম স্বাদের তিতা হলেও নিম তেল আমাদের জন্য অনেক উপকারী। নিম তেলে আমাদের কি কি উপকার করে তা নিয়েই থাকছে আজকে আমাদের বিস্তারিত আলোচনায়।
নিম-তেলের-উপকারিতা


নিম তেলের উপকারিতার কথা চিন্তা করে আজ আমাদের আর্টিকেলের বিষয় নির্ধারণ করেছি নিম তেলের উপকারিতা ও ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে। তো চলুন দেখা যাক কি কি থাকছে বিস্তারিত আলোচনায়। 

 সূচিপত্র: নিম তেলের উপকারিতা ও ব্যবহারের নিয়ম

 নিম তেলের উপকারিতা

নেম তেলের উপকারিতা বর্তমান সময়ের মানুষ না জানলেও আগের যুগের মানুষ নিম তেলের উপকারিতা ও ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে ঠিকই জানে। কারণ মানুষ নিম তেল ব্যবহার বেশি করতে এবং এর সুবিধা ও ভোগ করতো। কিন্তু বর্তমানে নিম তেলের ব্যবহার সেরকম ভাবে চোখে পড়ে না এবং বর্তমান প্রজন্ম এর ব্যবহার সম্পর্কে জানে না। নিম তেলের অনেক গুণ রয়েছে। এটি ব্যবহার করলে মানুষ অনেক সমস্যার সমাধান পায়। যেমন, ত্বকের জন্য নিম পাতা, চুলের যত্নে নিম পাতা,  রোধে  নিম তেলে অনেক উপকারী। 
সৃষ্টির শুরুতে যখন ওষুধ আবিষ্কার হয়নি তখন বিভিন্ন গাছপাতা দিয়ে মানুষ তাদের অসুখ সারাতো। প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া জিনিসগুলো মানুষের জন্য উপকারী এবং ভেজাল মুক্ত হয়। তাই প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদন করার নিম তেল ব্যবহার করলে করলে কোন সাইড ইফেক্ট হয় না। নিম তেলের বিদ্যমান বিভিন্ন ভিটামিন ও উপাদান মানুষের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। 

ত্বকের যত্নে নিম তেলের ব্যবহার 

ত্বকের যত্নে নিম তেল খুব কাযকরি। নিমে থাকা উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ই, ট্রাইগ্লিসারাইড এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ক্যালসিয়াম  ত্বকের কোলোজেন বুস্ট করে। ত্বকের যত্নে নিম তেলে যে ভাবে কাজ করে তার বিবরণ নিম্নে আলোচনা করা হলো। 
  • ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে নিম তেল: নিম তেলের উপকারিতা বলতে গেলে প্রথমে যে বিষয় টি মাথায় আসে সেটি হচ্ছে ত্বকের যত্নে নিম তেল। আর এই নিম তেল ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।  কালো ত্বক ফর্সা হয় নিম তেলের ব্যবহারে। 
  • ব্রণ মেস্তা দূর করতে নিম তেল: ব্রণ মেস্তা দূর করতে আদিকাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে নিম তেল। বর্তমান সময়ে আমরা অনেকেই ব্রণ মেস্তা দূর করার জন্য অনেক প্রসাধনী ব্যবহার করি। কিন্তু একবার আপনি বিশ্বস্ততার সহিত ব্যবহার করে দেখুন নেই নিম তেল দেখবেন মাত্র কয়েক দিনে আপনার ব্রণ মেস্তার সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
  • বয়সের ছাপ কমাতে নিম তেলের ব্যবহার : নিম তেলে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন উপাদান আমাদের শরীরের ত্বকের অনেক উপকার করে। আমাদের ত্বক প্রাণ ফিরে পায় নিম তেল ব্যবহার ফলে। আমাদের শরীরের ত্বকের জন্য যে সব ভিটামিন প্রয়োজন সেসব ভিটামিন রয়েছে তার জন্য আমাদের ত্বক হয়ে থাকে সতেজ। প্রতিদিন নিম তেল ব্যবহারের ফলে তোকে কোন বয়সের ছাপ পরেনা। 

চুলের যত্ন নিম তেলের ব্যবহার 

চুলকে ঘন, কালো ও আকর্ষণীয় করতে নিম তেলের গুরুত্ব অনেক। যারা নিয়মিত চুলের সমস্যায় ভুগছেন তারা ব্যবহার করতে পারেন এই নিম তেল। কারণ চুলের যত্ন নিম তেলের উপকারিতা অনেক। নিম তেল ব্যবহার করলে চুল ঘন কালো লম্বা হয়। সুন্দর চুলকে না চায় তাই আপনি যদি সুন্দর চুল পেতে চান এবং মাথায় খুশকি দূর করতে চান তাহলে নিয়মিত নিম তেল ব্যবহার করুন। নিম তেল ব্যবহার করলে আপনার চুলের সমস্যার সমাধান হবে। 

নিম-তেলের-উপকারিতা

  • অকালে চুল ঝরে যাওয়া থেকে রোধ করে নিম তেল: যাদের অকালে চুল ঝরে যায় এবং চুল পড়া রোধ করতে চান তারা ব্যবহার করুন নিম তেল তাহলে অকালে চুল ঝরে যাওয়া থেকে মুক্তি পাবেন। নিম তেলে রয়েছে ভিটামিন ও মিনারেল চুলের গোড়ায় শক্তি যোগে চুল পড়া রোধ করে। 
  • চুল ঘন ও কালো করতে নিম তেলের ব্যবহার: নারী ও পুরুষ উভয়ের বাহ্যিক সৌন্দর্যের একটি পতিক হচ্ছে চুল। চুল মানুষকে আকর্ষণীয় করে তোলে। তাই চুলের যত্ন সবাই করে এবং ঘন কালো চুল পেতে সবাই চায়। আর এই ঘন কালো লম্বা চুল পেতে সাহায্য করবে আপনাকে নিম তেলের ব্যবহারে। নিম তেলে থাকা ফ্যাটি এসিড আপনার রুক্ষ চুলকে করে তোলে প্রাণবন্ত। 
  • চুলের খুশকি দূর করতে নিম তেলের ব্যবহার: চুলের খুশকি দূর করতে নিম তেলের জুড়ি মেলা ভার। আমরা অনেকেই চুলের খুশকি নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় থাকি বিশেষ করে শীতকালে খুশকির পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই খুশির সমস্যা দূর করতে আপনি ব্যবহার করতে পারেন নিম তেল। মাথায় খুশকি থাকলে চুলের অনেক সমস্যা হয় যেমন চুল পড়ে, মাথায় দুর্গন্ধ, মাথায় বিভিন্ন ধরনের ঘা-খোস সৃষ্টি হয়। আর এই খুসকি সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন নিম তেলের ব্যবহারে। তাছাড়া নিমতলে থাকা ফাঙ্গাইল ইনফেকশন খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। 

মশা নিধনে নিম তেলের ব্যবহার 

মশা আকারর ছোট হলেও মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণি এর জালায় অতিষ্ঠ। তাই মশা মারতে বা মসা দমনে অনেকে অনেক কিছু ব্যবহার করে। নিম গাছ আমাদের জন্য অনেক উপকারী। নিমের পাতা আমাদের জন্য উপকারী নিমের ফল আমাদের জন্য উপকারী, নিম গাছের কাঠ আমাদের জন্য উপকারী, নিম গাছের ছালের রস আমাদের জন্য উপকারী, নিমের তেল যেমন মশা  দমনে সাহায্য করে তেমনি গাছের পাতাও মশা দমনে আমাদের সাহায্য করে।
নিম গাছের পাতা শুকিয়ে গুড়া করে ধূপ জালালে আশেপাশে মশা আসে না। নিম পাতার ধুয়া অসাধারণ অনেক সাহায্য করে। মশা নিধনে আরেকটি কার্যকরী উপায় হচ্ছে নিম তেলের ব্যবহার। নারিকেল তেলের সাথে কয়েক ফোটা  নিম তেল মিশিয়ে হাতে পায়ে মাখলে মশা কামড়ায় না। তাছাড়া নিম তেল হাতে পায়ে মাখলে ত্বকের জন্য অনেক উপকার হয়।

উকুন দমনে নিম তেলের ব্যবহার 

উকুন দমনে নিম তেলর উপকারিতা অনেক। চুলের যত্ন যেমন নিম তেল উপকারী তেমনি উকুন দমনে নিম তেল অনেক কার্যকরী। অনেকেয় উকুন নিয়ে অনেকে বিবর্ত বোধ করে। মাথার উকুন থাকলে শরীরের এবং চুলের অনেক ক্ষতি হয়। মাথায় উকুন থাকলে সারাক্ষণ মাথা চুলকায় তাছাড়া মাথায় উকুন থাকলে মাথার সমস্ত ভিটামিন উকুন খেয়ে নেয় এবং তাই চুলে তেমন পুষ্টি পাইনা। মাথায় উকুন থাকলে চুলের অনেক ক্ষতি হয়। তাই তার মাথার উকুন দূর করতে আমরা বিভিন্ন শ্যাম্প, সাবান,তেল ব্যবহার করে থাকি যেগুলো অনেক ব্যাবিহুল এবং অনেক ক্ষতিকর।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক নিয়মে ব্যবহার করুন নিম তেল দেখবেন ও উকুনের সমস্যা সমাধান হবে অতি সহজেই। নিম তেল সাদা তিতা হয় মাথায় ব্যবহার করলে মাথায় উকুন থাকবে না। তাছাড়া নিম তেল চুলের জন্য অনেক উপকারী। 

নিম তেল বানানোর প্রক্রিয়া 

প্রকৃতিতে সৃষ্টি প্রতিটি জিনিস মানুষের জন্য অনেক উপকারী। তেমনি একটি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি নিম ও নিমের তেল মানুষের জন্য অনেক উপকারী। বিশেষ এক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিম থেকে তেল বের করা হয়। সরাসরি গাছ থেকে তেল পাওয়া যায় না। প্রধানত নিমের বিজ থেকে তেল সংগ্রহ করা হয়। নিমের বীজ থেকে প্রক্রিয়া করে তেল বের করা হয়। সরিষা পিশে যে ভাবে তেল বের করা হয় ঠিক তেমন নিমের বিজ কে পিশে তেল বের করা হয়। 
মেশিনে পিসেও নিমের বিচি থেকে তেল বের করা হয়। আবার গরু দিয়ে ঘানি টেনে নিম থেকে তেল বের করা হয়। নিম তেলের সাথে অন্যান্য কিছু উপাদান  মিশালে এই তেল আরো কার্যকরী হয় এবং বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায়। 

নিম তেল ব্যবহারের সঠিক নিয়ম

সবকিছু ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন রয়েছে। তেমনি নিম তেল ব্যবহারের জন্য নিম তেলের কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে। নিম তেল সঠিকভাবে ব্যবহার করলে নিম তেলের উপকারিতা পাওয়া যাবে। নিম তেলের সঠিকভাবে ব্যবহার না করতে জানলে এর উপকার পেতে গিয়ে আমার ক্ষতির সম্মুখীন হব। তাই নিম তেল সঠিকভাবে ব্যবহার করা উচিত। নিম তেল সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এর অনেক উপকার পাওয়া যায়। 
নিম তেল প্রথমে মাথাতে বা পুরো শরীরে না মেখে প্রথমে কয়েক ফোঁটা তেল নিয়ে হাতে মাখতে হবে। এরপর কয়েক ঘন্টা রেখে দিয়ে দেখতে হবে শরীরে কোন ফুসকুড়ি বা এলার্জি বের হচ্ছে কিনা।
 
নিম-তেলের-উপকারিতা


নিমের অন্যান্য ঔষুধি গুন 

নিমের তেল ছাড়াও এর অনেক গুনাগুন রয়েছে। নিম স্বাদে তিতা তাহলেও এটি কিন্তু মানুষের অনেক উপকার করে। নিমের কাঠ দিয়ে যেমন আসবাব পত্র তৈরি করতে। নিম পাতা ও নিমের রস দিয়ে তেমন অনেক রোগের ওষুধ তৈরি করা হয়। নিম্নে নিমের অন্যান্য ঔষধ গুণগুলো উল্লেখ করা হলো :
  1. খোসপচড়া দূর করতে নিম পাতা ব্যবহার করা হয় 
  2. নিম পাতা ও হলুদ একসাথে বেটে মাখলে মুখের ব্রণ দূর হয় 
  3. প্রতিদিন নিম পাতার জলদিয়ে গোসল করলে শরীরে কোনো ঘাখোস হয় না 
  4. নিম গাছের ঝাল রাতে পানিতে ভিজিয়ে সকালে খালি পেটে সেই পানি খেলে জ্বর সাড়ে। 

শেষ কথা নিম তেলের উপকারিতা ও ব্যবহারের নিয়ম 

নিউ তেলের উপকারিতা ব্যবহার নিয়ম সম্পর্কে অনেকে অনেক কথাই লিখেছে। গল্প উপন্যাসেও নিম তেলের উপকারিতার কথা বর্ণ করা হয়েছে। নিম তেলের উপকারিতা অনেক নিম তেল ব্যবহার করলে আমরা অনেক সুফল পাবো। শরীর ও চুলের জন্য নিম তেল অনেক উপকারী। অনেকে চুলের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগে থাকেন কিন্তু নিম তেল ব্যবহার করলে চুলের কোন ক্ষতি হয় না এবং চুলের অনেক উপকার হয়। যার নিয়মিত শরীরে নিম তেল ব্যবহার করে তাদের চর্মরোগ হয় না।
আমাদের ওয়েবসাইটের সব সময় আমরা চাই এমন সব জিনিস নিয়ে আলোচনা করতে যেগুলো মানুষের উপকারে আসে। সেই জন্য আজকের আমাদের বিষয় ছিল নিম তেলের উপকারিতা নিয়ে আলোচনা। আমাদের এই আলোচনা যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তবে অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইটের পাশে থেকে আমাদের উৎসাহত যোগাবেন। এবং কোন অভিযোগ ও পরামর্শ থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এএন আইটি কেয়ার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url